ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা

ফররুখ রচনাবলী

১. সাত সাগরের মাঝি

২. আজাদ করো পাকিস্তান

৩. সিরাজাম মুনীরা

৪. নৌফেল ও হাতেম

৫. মুহূর্তের কবিতা

৪. দিলরুবা

৫. হাতেম তা’য়ী

৬. কাফেলা

৭. মুহূর্তের কবিতা

৮. হে বন্য স্বপ্নেরা

৯. হরফের ছড়া

১০. ইকবালের নির্বাচিত কবিতা

১১.পাখির বাসা

১২.ধোলাই কাব্য.. ইত্যাদি

কত যে আঁধার পর্দা পারায়ে ভোর হ’ল জানি না তা’।
নারঙ্গি বনে কাঁপছে সবুজ পাতা ।
দুয়ারে তোমার সাত সাগরের জোয়ার এনেছে ফেনা।
তবু জাগলে না? তবু, তুমি জাগলে না?
সাত সাগরের মাঝি চেয়ে দেখো দুয়ারে ডাকে জাহাজ,
অচল ছবি সে, তসবির যেন দাঁড়ায়ে রয়েছে আজ।
হালে পানি নাই, পাল তার ওড়ে নাকো,
হে নাবিক! তুমি মিনতি আমার রাখো;
তুমি উঠে এসো, তুমি উঠে এসো মাঝি মাল্লার দলে
দেখবে তোমার কিশতি আবার ভেসেছে সাগর জলে,
নীল দরিয়ায় যেন সে পূর্ণ চাঁদ
মেঘ তরঙ্গ কেটে কেটে চলে ভেঙে চলে সব বাঁধ ।
তবু তুমি জাগো, কখন সকাল ঝরেছে হাসনাহেনা
এখনো তোমার ঘুম ভাঙলো না? তবু, তুমি জাগলে না?

পাঞ্জেরি

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলার এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
দীঘল রাতের শ্রান্তসফর শেষে
কোন দরিয়ার কালো দিগন্তে আমরা পড়েছি এসে?
এ কী ঘন-সিয়া জিন্দেগানীর বা’ব
তোলে মর্সিয়া ব্যথিত দিলের তুফান-শ্রান্ত খা’ব
অস্ফুট হয়ে ক্রমে ডুবে যায় জীবনের জয়ভেরী।
তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
সম্মুখে শুধু অসীম কুয়াশা হেরি।

রাত্রিভ’র ডাহুকের ডাক….

এখানে ঘুমের পাড়া, স্তব্ধদীঘি অতল সুপ্তির!

দীর্ঘ রাত্রি একা জেগে আছি।

ছলনার পাশা খেলা আজ প’ড়ে থাক,

ঘুমাক বিশ্রান্ত শাখে দিনের মৌমাছি,

কান পেতে শোনো আজ ডাহুকের ডাক।

তারার বন্দর ছেড়ে চাঁদ চলে রাত্রির সাগরে

ক্রমাগত ভেসে ভেসে পালক মেঘের অন্তরালে,

অশ্রান্ত ডুবুরি যেন ক্রমাগত ডুব দিয়ে তোলে

স্বপ্নের প্রবাল।